ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে দখলদার বাহিনীর এক হাজারের বেশি সামরিক যান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
হামাসের সামরিক বাহিনী আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দা রোববার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অডিও বার্তায় একথা জানান। খবর প্রেসটিভির।
আবু উবায়দা বলেন, গাজা উপত্যকায় শত শত ইসরাইলি সামরিক যান ধ্বংস কিংবা অচল হয়ে গেছে। উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল দিয়ে গাজা উপত্যকায় যেসব ইসরাইলি সামরিক যান প্রবেশ করেছিল, গেলো ১০০ দিনে এমন এক হাজার যানে আমরা হামলা চালিয়েছি। হামলায় এসব যান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
গেলো তিন মাসে গাজা উপত্যকায় হামাস ‘শত শত সফল অভিযান চালিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দখলদার সেনাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধের পরিধি দিন দিন বাড়ছে এবং সে যুদ্ধের আগুনে শত্রু বাহিনী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা জ্বলেপুড়ে মরছে।

গাজা আগ্রাসনে ইসরাইলি বাহিনী যেসব সাফল্য অর্জনের দাবি করেছে তা নাকচ করে হামাস মুখপাত্র বলেন, আমাদের অস্ত্রাগার, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্ল্যাটফর্ম ও বহু কিলোমিটার টানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অথবা ধ্বংস করার যে দাবি ইসরাইল করছে, তা হাস্যকর। এমন একদিন আসবে যেদিন এসব দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
অডিও বার্তায় হামাসের হাতে আটক থাকা ইসরাইলি বন্দিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে বহু ইসরাইলি বন্দির সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের অনেকেই নিহত হয়েছে। ইসরাইলি আগ্রাসনে বাকিদের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
এসব বন্দিদের ভাগ্যে যা কিছু ঘটছে তার পুরো দায় ইসরাইলের বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ইসরাইলের সাথে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আবু উবায়দা।
ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনার কোনো অর্থ হয় না বলেও মনে করেন এ হামাস নেতা।
আবারও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো উত্তর কোরিয়া
৪০ শতাংশ চাকরিতে আঘাত করবে এআই: আইএমএফ