বেঁচে থাকার চরম থেকে চরমতম লড়াই করে যাচ্ছেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা। পুরো উপত্যকায় সুপেয় পানি ও খাবারের চরম অভাব। নোংরা পানি পান করায় বাড়ছে অসুখ। অথচ সেই নোংরা পানিও অপর্যাপ্ত এবং সংগ্রহ করতে পাড়ি দিয়ে যেতে হয় দীর্ঘ পথ। এমনই মানবিক সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন গাজাবাসীরা।
একটি দৃশ্যপট এমন, বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি ইয়াহিয়া আল নাজ্জার প্রতিদিন সকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরিবারের জন্য কাঁধে করে বয়ে আনেন এক গ্যালন পানি। তার ভাষায়, এটা প্রতিদিনের লড়াই। সবাইকে এই যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এক গ্যালনের এই কন্টেইনার নিয়ে ভোরবেলা চলে আসি। পানি নিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তারপর সারাদিন রাত আর পানি পাওয়ার উপায় নেই।
জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলার পর থেকেই রাফাহ অঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরের একটি অস্থায়ী তাঁবুতে বিশাল পরিবার নিয়ে গাদাগাদি করে থাকছেন তারা। ইয়াহিয়া আল নাজ্জার বলেন, পানি খুবই নোংরা আমরা জানি। এটা পান করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফিল্ড হাসপাতালগুলোতে এতো মারাত্মক রোগীতে ভরা যে ডায়রিয়া, আমাশয়ের রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ তাদের নেই। তার ওপর কোভিড ফিরে এসেছে এবং মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে।
ইয়াহিয়ার মা উম মোহাম্মদ বলেন, কষ্ট করে যে পানি বয়ে আনা হয় তা লবণাক্ত। পানি একেবারেই লবণাক্ত। এই পানি পান করে আমার নাতির হ্যাপাটাইটিস হয়েছে। আরও অনেক শিশু জন্ডিসে আক্রান্ত। তারপরও বাধ্য হয়ে আমরা ধোয়ামোছা, রান্নাসহ সব কিছুতে এই পানিই ব্যবহার করছি।

ইয়াহিয়ার বাবা আবু মোহাম্মদ জানান, লবণাক্ত এই পানি ছাড়া তাদের কাছে আর কোন পানযোগ্য পানির উৎস নেই। বেঁচে থাকলে হলে এই পানিই পান করতে হবে। আমাদের কাছে অন্য কোন উপায় নেই। যতোই লবণাক্ত হোক, আর বিষাক্ত হোক না কেন।
শুধু পানি নয়, পেট ভরে একবেলা খেতে পারে না শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া গাজার বাসিন্দারা। টয়লেটের অভাবে পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। নোংরা পরিবেশে বিশেষ করে নারী ও কিশোরী মেয়েরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গোসলের অভাবে সবার শরীরেই চুলকানি বা ঘায়ের মতো সমস্যা বাড়ছে।
হামলার পর ত্রিমুখী প্রতিশোধের চাপে যুক্তরাষ্ট্র