দিন যত গড়াচ্ছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বলছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির ধারেকাছেও নেই ইসরাইল-হামাস।
রমজান শুরুর আগে একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে চুক্তির লক্ষ্যে গত কয়েকসপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশর। সোমবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। কিন্তু বহুল প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যায়নি। মঙ্গলবার কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে গাজার পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’।
এ প্রেক্ষিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা চুক্তির কাছাকাছি নেই। এর অর্থ আমরা উভয়পক্ষকে এমন কোনো একটা বিন্দুতে মিলিত হতে দেখছি না যাতে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যে বর্তমানের মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব হয়।
তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সবপক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলা সম্ভব নয়। এছাড়া যুদ্ধ খুবই জটিল অবস্থায় আছে বলেও সতর্ক করলেন তিনি।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এসময় ইসরাইলি সেনাসহ ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা।
হামাস জানায়, ইসরাইলের কারাগারে জিম্মি থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি না দিলে, আটক ইসরাইলিদের মুক্তি দেবে না সংগঠনটি। পরে ইসরাইলের সাথে চারদিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি করে হামাস সরকার। চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের কারাগারে বছরের পর বছর ধরে বন্দি থাকা মোট ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল। আর বিনিময়ে গাজায় আটক ৫০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেয় হামাস।
সংগঠনটির হাতে এখনও প্রায় ১৫০ জন ইসরাইলি বন্দি রয়েছেন। দফায় দফায় অভিযান চালিও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি ইসরাইল।
হামাস বলছে, ফিলিস্তিনের সব বন্দিকে মুক্তি দিলে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, তার আগে নয়।
দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত, আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন বাইডেন-ট্রাম্প