ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনায় প্রকাশ্যে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
নেতানিয়াহুকে নিয়ে বাইডেনের এমন মন্তব্যের পর ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশটির সরকার অভিযোগ করে, কূটনৈতিক রীতিনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমেছে। এই হামলার মাধ্যমে ইসরাইলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি উন্মোচিত হয়েছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে পরাজিত হবেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। পরাজিত হলে বিরোধী আসনে তাকে বসতে হবে এবং দুর্নীতির অভিযোগে শুনানির মুখে পড়তে হবে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ না হওয়া বা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজিত হবে না।
গাজায় একটি যুদ্ধবিরতির সমঝোতার জন্য হামাস ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের যখন বাইডেন রাজি করানোর চেষ্টা করছেন, এমন একটি সংবেদনশীল মুহূর্তে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হলো। যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাইডেন পরিকল্পনা প্রস্তাবের পূর্বে ২৮ মে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন তিনি।
বাইডেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছেন বলে কি তিনি মনে করেন। জবাবে বাইডেন বলেছেন, ‘আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করছি না। তবে, মানুষের এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
এরপর তিনি যুদ্ধের শুরুর পূর্বে নেতানিয়াহু যেসব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় ছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বাইডেনের মন্তব্য স্পষ্ট করার অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট এই প্রশ্নের জবাবে খুব স্পষ্ট ছিলেন। আমরা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে তার নিজের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে দেব। অনেক সমালোচক যা বলছিলেন, শুধু সেটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার শেষরাতের দিকে অবশ্য নেতানিয়াহুর সমালোচনায় সুর নরম করেছেন বাইডেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু কী যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলছেন। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমি তা মনে করি না। যত গুরুতর সমস্যায় রয়েছেন, সে অনুসারে তিনি কাজ করার চেষ্টা করছেন।
বাইডেনের সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, নেতানিয়াহু ও ইসরাইলি রাজনীতি নিয়ে বাইডেনের মন্তব্য কূটনৈতিক রীতি বহির্ভূত।
বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে দ্ব্যর্থতাপূর্ণ জবাব দিয়েছেন বাইডেন।
তিনি বলেছেন, উত্তর হলো এটি অনিশ্চিত এবং এই তদন্ত ইসরাইলিদের করা উচিত। আইসিসিকে আমরা স্বীকৃতি দেইনি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট যে গাজার ফিলিস্তিনিরা বড় দুর্ভোগে রয়েছেন। খাবার, ওষুধ ও পানিসহ বিভিন্ন কিছু ঘাটতিতে রয়েছেন তারা। এছাড়া অনেক নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন। এসময় গাজা ও ইসরাইলে রক্তপাতের জন্য হামাসও দায়ী বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন।
গাজায় অনাহারকে ইসরাইল যুদ্ধের হাতিয়ার ব্যবহার করছে বলে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাইডেন বলেছেন, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি তাদের কর্মকাণ্ড যথাযথ না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি যখন ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরাইল সফর করেছিলেন তখন নেতানিয়াহুর সরকারকে বলেছিলেন যে, আমরা ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যে ভুল করেছিলাম, আপনারা যেন সেই ভুল না করেন। আফগানিস্তান দখল, ইরাকে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার ধারণা সাধারণভাবে সত্য ছিলনা। এর ফলে আমরা অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়েছি। আমরা যে ভুল করেছি তা আপনারা করবেন না।
বাইডেন বক্তব্য শেষ করেছেন এই বলে যে, প্রকৃতপক্ষে ইসরাইলিরা এখন গাজায় সেই ভুল করছে।
জলবায়ু সংকটে ঋণের বোঝা বেড়েছে ৫০ দেশের