হামাস-ইসরাইলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। ৩৬তম দিনে গড়ালো এই যুদ্ধ। গাজা জুড়ে হামলে পড়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ। মুহূর্মুহু গোলাবর্ষণ, বোমা, গুলির শব্দে কান বিভীষিকাময় পরিস্থিতি গাজাতে। যত দিন যাচ্ছে ততই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যু মিছিল।
চলমান যুদ্ধে শুরু থেকেই ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে গাজার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বড় বড় হাসপাতাল। তাদের দাবি, রোগীদের মাবন ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে, হাসপাতালের নিচেই হামাস গড়ে তুলেছে ইসরাইলের জন্য দুঃস্বপ্নের টানেল নেটওয়ার্ক। যদিও এমন দাবি অস্বীকার করেছে হামাস।
গাজা উপত্যকা দখল করার কোন ইসরাইলের নেই, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কথা জানালেও, গেল ২৪ ঘন্টায় সেখানে যুদ্ধের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে গাজা শহরে কেন্দ্রে থাকা চারটি হসপাতালকে নিশানা বানিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলের ভয়ংকর আইডিএফ বাহিনী।
এ্ই চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চতুর্ধিকে ঘিরে রেখেছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। একাধিক ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে হামলা চলছে চারদিক থেকে । এর মধ্যে গাজা শহরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা রয়েছে। জানা গেছে, এরই মধ্যে বেশিরভাগ হাসপাতালের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জ্বালানির অভাবে অনেক আগেই হাসপাতালগুলো জেনারেটর বন্ধ রয়েছে। গাজার ২১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাই আগেই তালা পড়েছে। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আল-শিফাকে টার্গেট করে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এতে মারা গেছে দুই শিশু, মৃত্যুর প্রহর গুণছে আরও অনেকে।
আইডিএফের লাগাতার গোলাবর্ষণ থেকে রেহাই পায়নি আল-রানতিসি এবং আল-নাসির নামে দুইটি শিশু হাসপাতালও। উত্তর গাজার একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকেও টার্গেট করেছে আইডিএফ। তবে আল-শিফাকে টার্গেট করার পরই উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এরই মধ্যে, হাসপাতাল চত্বর থেকে ২০ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, হাসপাতালে হামলা হবে না ধরে নিয়ে যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই এখানে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। তারা এখন সবাই জেনে গেছেন, যে কোন মুহূর্তে নেমে আসবে মৃত্যুবিভাষীকা।
আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় 'বেস ক্যাম্প' করে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত গোটা বিশ্ব। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যদি নরক বলে কিছু থেকে থাকে, তা হলো গাজা- এমনটাই বলছেন সাংবাদিকরা।
হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা শুরু করায় আবারও নেতানিয়াহুর দেশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে জাতিসংঘ। জানিয়েছে, গাজায় যা হচ্ছে সেটি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। এখনই যুদ্ধে না থামালে গাজায় বড় ধরনের বিপর্যয় মেনে আসবে বলে সতর্কও করেছে জাতিসংঘ।
সাত অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৭০ বার হামলা হয়েছে। ইসরাইলি গোলায় গুঁড়িয়ে গেছে ৮৭টি অ্যাম্বুল্যান্স। যুদ্ধের আগে গাজায় যে ৭২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল, তার ৫১টিই এখন বন্ধ। ফলে জরুরি ও দরকারি স্বাস্থ্যসেবারও পাচ্ছেন না গাজার লাখো ফিলিস্তিনিরা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজা দখলের ইচ্ছা তার নেই। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা গাজা শাসন করতে চাই না। শুধু চাই, একটা সভ্য নাগরিক সরকার আসুক সেখানে। যাতে সাত অক্টোবরের মতো হামলা আর না হয়। সেটা নিশ্চিত করতেই চলমান অভিযান চলছে। আমরা চাই, গাজার শাসন ভালো মানুষের হাতে হোক।
