গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আর নতুন কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। কাতারের দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনায় অংশ নেয়া নিয়ে বুধবার তাদের এ অবস্থান জানিয়েছে হামাস।
বৃহস্পতিবার দোহায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার কথা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নেতাদের। কিন্তু হামাসের এমন সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্স’র।
এর আগে, ইরান জানিয়েছিল, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে ইসরাইলের ওপর হামলা করা থেকে সরে আসবে তেহরান। ইরানের তিন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, একমাত্র গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কাতারের দোহায় পরিকল্পনা অনুযায়ী পরোক্ষ আলোচনা হবে বলে আশা করছে তারা। গাজায় এখনও যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে বলে জানায় ওয়াশিংটন। তবে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন তার মধ্যপ্রাচ্য সফর স্থগিত করেছেন, যা মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সরকার জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবারের আলোচনায় একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। তবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নতুন করে আলোচনার পরিবর্তে এরই মধ্যে গৃহীত একটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পরিকল্পনার গ্রহণের অনুরোধ করেছে।
হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে জানান, ‘গত ২ জুলাই পাঠানো যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও বাইডেনের খসড়া প্রস্তাবনার ওপর তাদের আস্থা আছে এবং ওই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করতে যেকোনো আলোচনায় প্রস্তুত তারা। নতুন আলোচনায় যাওয়া মানে দখলদারদের নতুন শর্ত আরোপ করার এবং আরও গণহত্যা চালানোর সুযোগ করে দেয়া।’
ইসরাইল বলেছে, তারা মঙ্গলবার তেল আবিবের দিকে হামাসের রকেট হামলার জবাব দিয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টায় মধ্য গাজা, খান ইউনিস ও পশ্চিম রাফাসহ ৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রকেট লঞ্চিং প্যাড এবং জঙ্গিদের উপর আঘাত করেছে।
গাজা যুদ্ধ অবিরামভাবে চলছেই। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বাসিন্দারা বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী পূর্ব দিকে কিছু বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে এবং শহরের কেন্দ্রের পূর্বাঞ্চলে ট্যাংক হামলা জোরদার করেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। বুধবার গাজার কেন্দ্র এবং দক্ষিণে ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্দশায় মস্কো ব্যথিত: পুতিন