ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শনিবার শুরু হওয়া বছরের সবচেয়ে বড় সংঘর্ষে এরইমধ্যে নিহতের তিনশ' ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। গাজা, ইসরাইলের দক্ষিনাঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এখনও তুমুল লড়াই চলছে।
হতাহত এবং হামলা-পাল্টা হামলার এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। তবে এরইমধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে ভাগ হয়ে গেছে বিশ্ব।
বাইডেন প্রশাসন এবং ন্যাটো জোটের দেশগুলো সরাসরি ইসরাইলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরান-কাতারসহ আরব বিশ্বের একাধিক দেশ এই সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে দুষছে। খবর আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরাইলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামাস সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা জানায়। সন্ত্রাসবাদের কোনো যুক্তি নেই। আমরা ইসরাইলের সরকার ও জনগণের সাথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছি এবং এই হামলায় ইসরাইলিদের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি।
মার্কিন সামরিক প্রধান লয়েড অস্টিন বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ থেকে ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য যা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনে নিহত বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সমবেদনা জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভের বরাত দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছেন, রাশিয়া ফিলিস্তিনি, ইসরাইল এবং আরব দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
একইসাথে উভয় পক্ষকে এ সংঘাত বন্ধের আহবান জানিয়েছে পুতিন প্রশাসন।
ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা রহিম সাফাভি বলেছেন, ইরান ফিলিস্তিনিদের এ হামলাকে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, আমরা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। ফিলিস্তিন ও জেরুজালেমের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের পাশে থাকবো।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, হামাসের হামলা প্রমাণ করেছে যে, ইসরাইলের ইহুদিবাদী সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি তরুণদের হাতেই রয়েছে।

ইউক্রেন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কি হামাসের হামলাকে 'সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই।
ইসরাইল এবং দেশটির জনগণকে রক্ষা করার অধিকারকে ইউক্রেন সমর্থন করে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ন্যাটো
জেলেনস্কি পাশাপাশি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের হামলাকে 'সন্ত্রাসী হামলা' হিসবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।
জোটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মুক্ত সমাজের জন্য এটি একটি মৌলিক হুমকি এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
সৌদি আরব
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানিয়েছে সৌদি সরকার।
সহিংসতা বন্ধে যথাযথ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানিয়েছে দেশটি।

তুরস্ক
পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
আঙ্কারায় পার্টি কংগ্রেসে এরদোয়ান বলেন, আমরা সব দলকে সংযমের আহবান জানাই। তাদের অবশ্যই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্য
হামাসের সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লিভারলি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামাসের ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানায়।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সবসময় ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করবে।
কাতার
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি জারি করে বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে চলমান সহিংসতার জন্য ইসরাইল একাই দায়ি।
যদিও উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অনুশীলন করতে বলেছে দেশটি।
গাজায় ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ শুরু করার অজুহাত হিসেবে ইসরাইলি হামলা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছে কাতার।

ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরাইলের দখলদার সেনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে।
রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ইসরাইলের একাধিক সেনা কর্মকর্তাকে আটকের দাবি হামাসের
ইসরাইলি হামলায় ১৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত, চলছে তুমুল লড়াই
হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরাইলের যুদ্ধ ঘোষণা