গাজা শহরে ত্রাণ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার মানুষের ওপর আবারও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এসব হামলায় কমপক্ষে ২১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক মানুষ জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিক্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবারের শেষ প্রহরে এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছে। ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতিতে চলে যাওয়া অবরুদ্ধে গাজায় খাদ্যের জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলি হায়েনাদের সবশেষ হামলার ঘটনা এটি।
আল শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ গ্রাব বলেন, এখনো হতাহত লোকজনকে সেখানে আনা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজায় কুয়েতিদের ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় থাকা লোকজনকে টার্গেট করে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী তাদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে।
এর আগে কুয়েত গোলচত্বরে একই খাদ্য বিতরণ পয়েন্টে ইসরাইলি বাহিনী কমপক্ষে ছয় ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরাযইলি বাহিনী হেলিকপ্টার, ট্যাঙ্ক এবং ড্রোন ব্যবহার করে খাবারের ট্রাকে অপেক্ষারত হাজার হাজার লোককে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ত্রাণের জন্য অপেক্ষমানদের উপর গুলি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করে উল্টো বলেছে এর জন্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনিরা দায়ী। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইডিএফ দাবি করে, ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় থাকা মানুষদের ওপর আতর্কিত হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র ফিলিস্তিনিরা।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিস্ফোরণস্থলে ট্যাংক বা গোলন্দাজ বাহিনীর গোলার বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়েছে। এ খবরটিও অস্বীকার করে ইসরাইল জানিয়েছে যে, একটি প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে ইসরাইলি বাহিনী ট্যাঙ্ক, বন্দুক বা বিমান হামলার মাধ্যমে কোন আক্রমণ চালায়নি।
গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। নির্বিচার হামলায় গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিহত হয়েছে ৩১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আর ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ বাসিন্দারা প্রায় সবাই ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে রোজা। তাতেও হামলা কমেনি।
গাজার উত্তরে সরাসরি ত্রাণ বিতরণে পাইলট প্রকল্প