গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা ও চলমান সংঘাত নিয়ে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন লেবাননের শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) এই ভাষণ প্রচার করা হবে। তবে তার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি অবস্থানে লক্ষ্য করে একযোগে ১৯টি আক্রমণ চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা শুরুর পর থেকে এ ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণ চালিয়েছে। জবাবে হিজবুল্লাহর অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলের ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বলেছে, বৃহস্পতিবার লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরাইলি শহর কিরিয়াত শমোনায় হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় দুইজন আহত হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে শিয়াপন্থী সংগঠনটি বলেছে, ইসরাইল সীমান্তের আল-মালকিয়া ও হুনিন গ্রামের আকাশে উড়ার সময় একটি ইসরাইলি অস্ত্রবাহী ড্রোন ধ্বংস করেছে তারা। ড্রোনটি বিপদজনক অস্ত্র বহন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রবাহী ইসরাইলি ড্রোনে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে ড্রোনটিতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে তা আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়।
গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত দখলদার ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হিজবুল্লাহরও বেশ কয়েক জন সেনা নিহত হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, চলমান পরিস্থিতি ও হিজবুল্লাহর কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে সংগঠনটি। যা ইসরাইলের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এর ফলে নতুন করে বিপাকে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো।
এর আগে সংগঠনটির পক্ষে থেকে বলা হয়েছিল, ইসরাইলিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা পুরোপুরি প্রস্তুত।
গেলো কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের সরকার হামাসের সাথেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে হিজবুল্লাহ।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে
গাজা ঘিরে ফেলার দাবি ইসরাইল বাহিনীর