হামাসের সামনে ঘাম ছুটে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাদের। গাজা উপত্যকার খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের সাথে দুর্ধর্ষ লড়াই চলছে যোদ্ধাদের। সেই সংঘর্ষের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন- হামাস।
ভিডিও দেখে বোঝাই যাচ্ছে দিনে দিনে কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠছে হামাস। অন্যদিকে ইসরাইলি সৈন্যদের মৃত্যু যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছে এই সংগঠনের সামনে। যার প্রমাণও মিলেছে এতোদিনের লড়াইয়ে। মৃত্যুর পাশাপাশি বিকলাঙ্গ হচ্ছে হাজার হাজার ইসরাইলি সৈন্য।
সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার গাজার খান ইউনিস এলাকার একটি স্কুলের কাছে হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষে নিহত হয়েছে সাত ইসরাইলি সেনা। আহত হয়েছে আরও চারজন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর পঞ্চম ব্রিগেডের আট হাজার একশ’ এগারতম ব্যাটালিয়নের সেনারা শহরের একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণে নিহত হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল নিহত সাত সেনা সদস্যের ছবিও প্রকাশ করেছে।
শুধু তাই নয় এক পর্যায়ে হামাসের সাথে না পেরে হেলিকপ্টার গানশিপের পাশাপাশি ডাকা হয় যুদ্ধবিমান। এসব বিমান থেকে ফেলা হয় যুদ্ধসরঞ্জাম। আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক স্থল অভিযানে অংশ নিয়ে শতাধিক সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছে শতশত সৈন্য।
ইসরাইলি বাহিনী বলছে, স্কুল থেকে গুলি চালানো হামাস যোদ্ধাদের মোকাবেলায় এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার গানশিপ এবং যুদ্ধবিমানকে ডাকা হয়। এর আগে গত রোববার গাজায় আরও তিন ইসরাইলি সেনার মৃত্যু হয়। খান ইউনিসে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।

ইসরাইলি বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩৩ সেনা নিহত হয়েছে। স্থল অভিযানে অংশ নিয়ে নিহত হওয়ার পাশাপাশি ছয় শতাধিক সেনা আহত হয়েছে। এছাড়া, অভিযানে অংশ নেয়া দুই হাজার সেনাকে ‘বিকলাঙ্গ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটি।
ইসরাইলের বিলিয়ন ডলারের সেনাবাহিনী হামাসকে যতই কোণঠাসা করে ফেলার দাবি করছে, ততই যেন হামাস আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এরিমধ্য সশস্ত্র সংগঠনকি হুশিয়ারী দিয়ে বলেছে, তাদের দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত এক জন বন্দিও গাজ়া থেকে বেঁচে ফিরতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, গেল ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরাইলি ও বিদেশি নাগরিককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর জেরে সেদিনই গাজায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাঁদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু।
