দখলদার ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় একেবারেই ভেঙে পড়েছে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ৩৬টি হাসপাতালের মাত্র ১২টি এখন কোনোরকমে চিকিৎসা দিতে পারছে। মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ আল শিফা হাসপাতালে অন্তত ১৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
ছয় মাস ধরে চলা হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ইসরাইলি হায়েনাদের বর্বর হামলা থেকে রেহাই পায়নি হাসপাতালগুলোও। জাতিসংঘ বলছে, ইসরাইলের লাগাতার হামলায় গাজা উপত্যকার দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল এখন সেবাদানের অনুপযোগী। এতে চরম দুর্দশায় পড়েছেন বোমা-গুলিতে আহতরা।
গাজার হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বায়ক সংস্থা ইউএনওসিএইচএ বলেছে, উপত্যকাটির যেসব হাসপাতাল এখনো চালু আছে, সেগুলোও পূর্ণ মাত্রায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। দক্ষিণের হাসপাতালগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডের ৩৬টি হাসপাতালের দুই-তৃতীয়াংশই ইসরাইলি হামলায় এখন অকার্যকর। কোনো রকমে সেবা দিতে পারছে মাত্র ১২টি হাসপাতাল।

ইউএনওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, গাজার দক্ষিণে রাফা এলাকার আল-শিফা হাসপাতাল ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১০ দিন অবরুদ্ধ। হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মী ও রোগীদের এমন একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে, যেটি আগে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হতো। সেখানে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নেই।
ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ১৮ মার্চ আল-শিফা হাসপাতালে ট্যাংক নিয়ে হামলা চালায় ইসরাইল। এর পর থেকে হামলা চলছেই। এতে হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি আশপাশের ঘরবাড়িও ধ্বংস হচ্ছে। হাসপাতালটিতে হত্যা করা হয়েছে এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে।

ইসরাইলের দাবি, ১০ দিনে আল-শিফা হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় ২০০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে তারা। তবে জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের ভাষ্য, ১০ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে ১৩ শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরাইল।
গাজার এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে শুধু জাতিসংঘ নয়, আশঙ্কা জানিয়েছে মানবিক সহায়তা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট। তারা বলছে, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তর গাজার হাসপাতালগুলোর ‘বেশির ভাগই’ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ অঞ্চলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ‘ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে’।
নেদারল্যান্ডসে নাইট ক্লাবে বেশ কয়েকজনকে জিম্মি