ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারে। এর ফলে আবারও বাড়তে পারে জ্বালানি তেল এবং পণ্যের দাম।
সোমবার এক প্রতিবেদনে চলমান সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে এ কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। খবর বার্তা সংস্থা এপি'র।
সংস্থাটি বলছে, দক্ষিণ ইসরাইলে হামাস যোদ্ধাদের হামলা এবং গাজায় ইসরাইলের পাল্টা হামলার পর জ্বালানি তেলের দাম এরইমধ্যে ছয় শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনে রপ্তানির ওপর জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি নির্ভর করবে।
প্রাথমিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম তিন থেকে ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে, এতে ব্যারেল প্রতি দাম দাঁড়াবে ৯৩ থেকে ১০২ ডলার। একটি মধ্যম দৃশ্যকল্পে দাম ১২১ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪০ থেকে ১৫৭ ডলারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে বিশ্বব্যাপী বাড়তে পারে খাবার ও অন্যান্য পণ্যের দাম। নতুন করে সংকটে পড়বে বহু দেশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দারমিত গিল বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই যুদ্ধ ছিলো ‘১৯৭০ এর দশকের পর থেকে পণ্যের বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।’
এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব ফেলেছিল তা আজও অব্যাহত রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, এবার ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধের বিরূপ ফলাফল পড়তে পারে জ্বালানির বাজারে।
নীতিনির্ধারকদের সজাগ থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি সংঘর্ষ বাড়তে থাকে, তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্ব অর্থনীতি ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত উভয়ের ফলে দ্বিগুণ ধাক্কার সম্মুখীন হবে।
সবশেষ গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় গাজায় আট হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। যাদের অর্ধেকই শিশু।
অন্যদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহবান স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফলে এ সংঘাত আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
গাজায় যুদ্ধবিরতির আহবান প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনে হামলার নিন্দা জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব পাস