গাজায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হাতে জিম্মি ইসরাইলি নাগরিকদের আত্মীয়-স্বজনরা বিরল এক ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার জেরুজালেমে সংসদীয় কমিটির অধিবেশনে হামলা চালিয়েছে তারা। এ সময় তারা তাদের প্রিয়জনকে মুক্ত করে আনতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি দাবি জানান।
প্রায় ২০ জনের একটি দল হঠাৎ করেই ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের একটি সংসদীয় সভা চলার সময় ঢুকে পড়ে হট্টগোল বাঁধিয়ে দেয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেও গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে জিম্মি ইসরাইলিদের উদ্ধার ক্রমাগত ব্যর্থতায় দেশটির মধ্যে চরম অসন্তোষের প্রকাশ এই ঘটনা।
গেলো নভেম্বরে যুদ্ধবিরতির সময় হামাসের হাতে জিম্মি ২৫৩ জন ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে ১৩০ জনকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এরমধ্যে ইসারইলের হামলাতে বেশ কয়েকজন জিম্মি মারা গেছেন। সংসদীয় সভায় ঢুকে পড়াদের মধ্যে তিন জিম্মির নারী সদস্যরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইলি পার্লামেন্টে প্রবেশ করে জিম্মি ইসরাইলিদের আত্মীয় প্রিয়জনদের এখনই দেশে ফেরাতে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় এক নারী তার পরিবারের তিন জনের ছবি দেখিয়ে বলতে থাকেন, শুধু একজন আমি জীবিত ফিরে পেতে চাই, তিনজনের মধ্যে একজন!
নেসেট ফাইন্যান্স কমিটির সভায় আরেক নারীকে কান্না করতে দেখা যায়। আকুতি জানাতে থাকে প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার জন্য। অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের হাতেও শোভা পাচ্ছিলো বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড। তাতে লেখা ছিলো, তারা সেখানে মারা গেলে, আপনি এখানে বসবেন না।
গাজায় আরেকটি যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকা, কাতার ও মিশন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে ইসরাইলের পক্ষ থেকে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও সেটি মানেনি হামাস। তারা চাইছে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার। সেই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণও।
ফলে জিম্মিদের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কি লেখা আছে সেটি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হামাসের দাবি, ২৭ জন জিম্মি ইসরাইলের গুলিতেই মারা গেছে। এই ঘটনার পর ইসরাইলের ভেতরে জিম্মিদের নিয়ে উৎকণ্ঠা আরও বাড়তে থাকে। তেল আবিবের সড়কে প্রায়ই বিক্ষোভ চলতে থাকে।
জিম্মি পরিবার ও সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপকূলীয় বাড়ির পাশাপাশি নেসেট ভবনের বাইরেও ক্যাম্প করতে শুরু করেছে। এক নারী বিক্ষোভকারী এলি স্টিভি যার ছেলে ইদান গাজায় বন্দী, তিনি বলছিলেন, জিম্মিরা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা তাকে ছাড়ব না।
জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে নিয়মিত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে ইসরাইলের নাগরিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে সমাবেশগুলো আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগের দাবি উঠায় পতনের মুখে আছে ক্ষমতাসীন কট্টর ডানপন্থি সরকার। সব মিলিয়ে বড় ধরনের চাপে আছেন নেতানিয়াহু।
শনিবার রাতে, তেল আবিব, হাইফা এবং জেরুজালেমে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে, নির্বাচনের ডাক দিয়েছে। তেল আবিবে, কয়েকজন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি মহাসড়ক অবরোধ করে। সোমবার নেসেটের ঘটনা দেশটির আইনপ্রণেতাদের কপালের ভাজ আরও বড় করেছে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়ালো