গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এরিমধ্যে নতুন প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ মিশর ও কাতারের কাছে পেশ করেছে হামাস। চতুর্থ দফার প্রস্তাবে বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস।
কাতারভিক্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির সময় ৭০০ থেকে ১ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। তাদের মধ্যে ইসরাইলি কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১০০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন। এর বিনিময়ে তারা ইসরাইলের নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ বন্দীদের মুক্তি দেবে।
বৃহস্পতিবার রাতের শেষভাগে হামাস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি পূর্ণ চিত্র দেয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ হবে, ফিলিস্তিনিরা ত্রাণ পাবে, বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।
হামাস আরও জানিয়েছে, এটি হবে চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির তারিখ দিতে হবে। হামাস আরো বলেছে, পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে উভয় পক্ষের আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়া হবে। গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের চলে যেতে হবে।

প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সেক্রেটারি-জেনারেল মুস্তাফা বারঘৌতি বলেছেন, গাজায় একটি চুক্তির জন্য হামাসের নতুন প্রস্তাবটি আগেরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। এতে করে যেমন বন্দি বিনিময়ের পাশাপাশি গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ খুলে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবের দাবিগুলোকে অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি অবাস্তব দাবির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ও বর্ধিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার কাছে একটি ব্রিফিং দেওয়া হবে।
মিশর ও কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে শিগগির যুদ্ধবিরতি চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। হামাস বলেছে, গত কয়েক সপ্তাহজুড়ে নেতানিয়াহু হামাসের দাবিগুলো নাকচ করে দেওয়ায় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর আগে সর্বশেষ প্যারিসে আয়োজিত আলোচনার ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে হামাসকে ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবে প্রতি ১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির বিনিময়ে একজন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির কথা বলা হয়েছিল। এবারের চুক্তিতেও একই অনুপাত বজায় রাখা হয়েছে।
ইসরাইল সেই খসড়া চুক্তি নাকচ করে জানিয়েছিল, হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা যুদ্ধও চালিয়ে যাবে। অপরদিকে, হামাস চাইছে চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। হামাস বলেছে, প্রাথমিকভাবে বন্দি ও জিম্মি বিনিময়ের পর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলের গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ দিতে হবে। এটাই হামাসের মূল দাবি এবং মূলত এই দাবিকেই অবাস্তব বলছেন নেতানিয়াহু।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। এতে এক হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং হামাসের হাতে জিম্মি হন প্রায় ২৫৩ জন মানুষ। জিম্মিদের মধ্যে ১৩০ জন এখনো গাজায় আছেন। এর পর থেকে গাজায় প্রায় ছয় মাস ধরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ হাজার ১৮৪ জন মানুষ। নিহতের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ত্রাণ নিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বহু ফিলিস্তিনি
পশ্চিমাদের ত্রাস কে এই ইসমাইল ঘানি?