ইসরাইলের চলমান হামলা শুধু গাজা উপত্যকার জনপদগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়নি, একাধিকবার পরিবারগুলোকে বাস্তুচ্যুত করেনি কিংবা চিকিৎসা পরিষেবাগুলোকে ধ্বংস করেনি, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের নির্ভরতার মূল ভিত্তি ‘মাটি ও পানি’ -কেও বিষাক্ত করে তুলেছে। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চার সপ্তাহ পরেও, যা ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে, পরিবেশগত ধ্বংসের মাত্রা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আল-জেবেন ব্রাজিলের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে এই সংকটকে ইসরাইলের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত একটি পরিবেশগত মহাবিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, এই যুদ্ধ প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ক্ষতি করেছে এবং ছয় কোটি ১০ লক্ষ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ তৈরি করেছে, যার কিছু অংশে বিপজ্জনক বিষাক্ত পদার্থও রয়েছে।
গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকা, যা এক সময় ছিল একটি প্রাণবন্ত জনপদ, এখন তা বর্জ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়, যা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছিলো, এখন কাঁচা পয়ঃবর্জ্য এবং আবর্জনার দুর্গন্ধময় আধারে পরিণত হয়েছে।

ইসরাইলি বিমান হামলায় পানির পাম্পগুলো ধ্বংস হওয়ার পর এই দূষণ শুরু হয়। বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হওয়ায়, দূষিত পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে এবং তা আশেপাশের বাড়িঘর ও তাঁবুগুলোকে গ্রাস করার হুমকি দিচ্ছে।
উম্ম হিশামের মতো বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এই বিষাক্ত পুকুরের আশেপাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, মশা, উপচে পড়া নর্দমার পানি এবং চারপাশের ধ্বংস- এসবই তাদের ও তাদের শিশুদের জীবনের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনছে।
গাজা সিটি পৌর কর্মকর্তা মাহের সালেম সতর্ক করেছেন, দূষিত পানির স্তর ছয় মিটারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে এবং বেড়া ধ্বংস হওয়ায় যে কোনো সময় শিশু বা গাড়ি তাতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিকল্পহীন জীবন
গাজার স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বদ্ধ ও দূষিত পানির কারণে দ্রুত মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। এই যুদ্ধ ইচ্ছাকৃতভাবে পয়োনিষ্কাশন এবং পানির নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে, যার ফলে ভূগর্ভস্থ এবং উপকূলীয় পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, পরিবারগুলো জানে যে কূপ, কন্টেইনার বা পানির ট্রাক থেকে তারা যে পানি সংগ্রহ করছে, তা দূষিত এবং পান করার অযোগ্য, তবুও তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

গেলো সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, গাজার মিঠা পানির সরবরাহ খুব সীমিত এবং যা অবশিষ্ট আছে, তার অধিকাংশই দূষিত। পয়োনিষ্কাশন পরিকাঠামো ও পাইপ লাইন ব্যবস্থার ধ্বংসের ফলে গাজার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও বেশি দূষিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি হামলায় গাজার কৃষি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এলাকায় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সংক্ষেপে, গাজায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন পানি, খাবার এবং রুটি খোঁজার লড়াইয়ের কাছে, নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, ইসলামাবাদকে কাবুলের হুঁশিয়ারি